নির্বাহী পরিচালক

আমি সোহাগ মিয়া। মানবকল্যাণ, শিক্ষা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মহান প্রত্যয় নিয়ে পরিচালিত প্রগতি সেবা ফাউন্ডেশন-এর উপদেষ্টা পদে উন্নীত হতে পেরে আমি গভীরভাবে আনন্দিত, গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। এই সম্মান আমার জন্য শুধু একটি পদ নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি বৃহত্তর দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।

প্রগতি সেবা ফাউন্ডেশন একটি অবাণিজ্যিক, অরাজনৈতিক এবং বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যার মূল লক্ষ্য শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং একটি দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও বেকারত্বমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এই মহৎ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা জনাব জাকির হোসেন, যিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তিনি বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা ও দক্ষতাই মানুষের জীবনের প্রকৃত শক্তি। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজস্ব কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সমাজ গঠনের লক্ষ্যে একের পর এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে তিনি মাদারীপুর জেলায় প্রগতি লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে তরুণ-তরুণীদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত প্রগতি প্রি-ক্যাডেট স্কুল, যা শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রশংসনীয় বিষয় হলো, ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সরকার, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেনি। এমনকি কোনো ব্যাংক ঋণও নেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত উদ্যোগ, ত্যাগ ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমান বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র আজ তথ্যপ্রযুক্তির সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। অথচ আমাদের দেশে এখনও অনেক মানুষ দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পিছিয়ে রয়েছে। অনেক প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী সুযোগের অভাবে তাদের মেধা ও সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই প্রগতি সেবা ফাউন্ডেশন সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও সম্ভাবনাময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এর প্রধান লক্ষ্য।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৭ (সাত) সদস্যবিশিষ্ট একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা জনাব জাকির হোসেন ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জনাব সোহাগ নির্বাহী পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁদের দূরদর্শী নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনটি ক্রমাগত সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে।

ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত কার্যালয় হাজী খলিল ম্যানশন, পূর্ববন্দ ডাকপাড়া, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০-এ অবস্থিত। এছাড়াও ঢাকার গুলশানে একটি লিয়াজোঁ অফিস রয়েছে, যেখান থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সমন্বয়মূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রগতি সেবা ফাউন্ডেশন তার মহৎ উদ্দেশ্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসেবার মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

সোহাগ মিয়া
নির্বাহী পরিচালক
প্রগতি সেবা ফাউন্ডেশন